সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

ফেব্রুয়ারী, ২০২১ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

শিক্ষামূলক গল্প: এক বাদশা ও ফলের ঝুড়ি

শিক্ষামূলক গল্প: এক বাদশা ও ফলের ঝুড়ি এক বাদশার একটি বাগান ছিল। বাগানটি ছিল অনেক বড় এবং বিভিন্ন স্তর বিশিষ্ট। বাদশাহ একজন লোককে ডাকলেন। তার হাতে একটি ঝুড়ি দিয়ে বললেন, আমার এই বাগানে যাও এবং ঝুড়ি বোঝাই করে নানা রকম ফলমুল নিয়ে আস। তুমি যদি ঝুঁড়ি ভরে ফল আনতে পার আমি তোমাকে পুরস্কৃত করব। কিন্তু শর্ত হল, বাগানের যে অংশ তুমি পার হবে সেখানে তুমি আর যেতে পারবে না। লোকটি মনে করলো এটা তো কোন কঠিন কাজ নয়। সে এক দরজা দিয়ে বাগানে প্রবেশ করল। দেখল, গাছে গাছে ফল পেকে আছে। নানা জাতের সুন্দর সুন্দর ফল। কিন্তু এগুলো তার পছন্দ হল না। সে বাগানের সামনের অংশে গেল। এখানকার ফলগুলো তার কিছুটা পছন্দ হল। কিন্তু সে ভাবল আচ্ছা থাক সামনের অংশে গিয়ে দেখি সেখানে হয়ত আরো উন্নত ফল পাব, সেখান থেকেই ফল নিয়ে ঝুঁড়ি ভরব। সে সামনে এসে পরের অংশে এসে অনেক উন্নত মানের ফল পেল। এখানে এ সে তার মনে হল এখান থেকে কিছু ফল ছিড়ে নেই। কিন্তু পরক্ষণে ভাবতে লাগলো যে সবচেয়ে ভাল ফলই ঝুড়িতে নিবে। তাই সে সামনে এগিয়ে বাগানের সর্বশেষ অংশে প্রবেশ করল। সে এখানে এসে দেখল ফলের কোন চিহ্ন ই নেই। অতএব সে আফসোস করতে লাগল আর বলতে লাগল, হা

আর্নেস্ট হেমিংওয়ে’র ছয় শব্দের গল্প!

আর্নেস্ট হেমিংওয়ে’র ছয় শব্দের গল্প! আর্নেস্ট হেমিংওয়ে ”For sale. Baby shoes. Never worn” বন্ধুদের সঙ্গে একবার রেস্তোরাঁয় বসে খাচ্ছিলেন আর্নেস্ট হেমিংওয়ে। সে সময় তিনি বন্ধুদের সঙ্গে ১০ ডলারের বাজি ধরেন যে ছয় শব্দে তিনি একটা আস্ত গল্প লিখে ফেলতে পারবেন। এরপর ন্যাপকিনে লিখে ফেলেন তার গল্পটি। গল্পটি হচ্ছে—– ”For sale. Baby shoes. Never worn” শিশুর একজোড়া জুতো বিক্রি করা হবে, যা একবারও পরেনি শিশুটি । একজন মায়ের অনুভূতি নিয়ে লেখা এ গল্পটি মাত্র ৬টি শব্দ দিয়ে লেখা হয়েছিল। বাচ্চার জন্য জুতো কেনা হয়েছিল, কিন্তু সেই বাচ্চাটা পৃথিবীর আলোই দেখেনি, মায়ের গর্ভেই শিশুটির মৃতু হয়” ৬ শব্দে গর্ভে মারা যাওয়া শিশুর জন্য মায়ের অনুভূতি! কী ভীষণ বেদনাদায়ক। সাহিত্য সমালোচকেরা এটিকে পৃথিবীর সবচেয়ে ছোটগল্পহিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে থাকেন ! দারুণ অনুপ্রেরণাদায়ী নোবেল বিজয়ী এ আমেরিকান লেখক তার ‘ দ্য ওল্ডম্যান এন্ড দ্য সি ‘ উপন্যাসে একটি সংলাপ যেটি আজও হেরে যাওয়া মানুষকে সমানভাবে জাগিয়ে তোলে। “A man can be destroyed but not defeated” বিটোফেন বধির হয়ায় সেই কষ্ট, সে কষ্ট বয়ে বেরিয়েছেন বিটোফেন তাঁর তৈরি করা সুরে। তেমনি প্

জীবনসঙ্গীনী সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল (রহঃ) এর ছেলেকে দেয়া নসীহত!

জীবনসঙ্গীনী সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল (রহঃ) এর ছেলেকে দেয়া নসীহত! নারীরা সাধারণত রোমান্টিকতা পছন্দ করে। খুনসুটি-রসিকতা পছন্দ করে। নখরা-ন্যাকা তাদের স্বভাবগত। তারা ভালবাসার স্পষ্ট প্রকাশকে খুবই পছন্দ করে। তুমি একান্তে স্ত্রীর কাছে এসব কথা প্রকাশে কখনোই কার্পণ্য করবেনা। তাকে বেশি বেশি ভালোবাসার কথা বলবে। যদি এসবে কার্পণ্য কর,তাহলে দেখবে কিছুদিন পরই তোমার আর তার মাঝে একটা অদৃশ্য পর্দা ঝুলে গেছে। এরপর দিনদিন পরস্পরের সম্পর্কে শুষ্কতা আসতে শুরু করবে। ভালবাসা জানলা দিয়ে পালাবার পথ খুঁজবে। নারীরা কঠোর-কর্কশ-রূঢ়-বদমেজাজি-রুক্ষস্বভাবের পুরুষকে একদম পছন্দ করেনা। তোমার মধ্যে এমন কিছু থাকলে এখুনি ঝেড়ে ফেল। কারণ তারা সুশীল,ভদ্র,উদার পুরুষ পছন্দ করে। তুমি তার ভালবাসা অর্জনের জন্য,তাকে আশ্বস্ত করার জন্য হলেও গুণগুলো নারীরা কঠোর-কর্কশ-রূঢ়-বদমেজাজি-রুক্ষস্বভাবের পুরুষকে একদম পছন্দ করেনা। তোমার মধ্যে এমন কিছু থাকলে এখুনি ঝেড়ে ফেল। কারণ তারা সুশীল,ভদ্র,উদার পুরুষ পছন্দ করে। তুমি তার ভালবাসা অর্জনের জন্য,তাকে আশ্বস্ত করার জন্য হলেও গুণগুলো অর্জন কর। এটা খুব ভালো করে মনে রাখবে,তুমি তোমার স্ত্রীকে যেম

মহান দার্শনিক সক্রেটিসের সংক্ষিপ্ত জীবনী

মহান দার্শনিক সক্রেটিসের সংক্ষিপ্ত জীবনী সারাজীবন তিনি ছিলেন ধাঁধার মতো। মৃত্যুর পরও রেখে গেছেন অনেক ধাঁধা। দর্শন বিষয়ে কোনো বইও লিখে যাননি। তবু তিনি পৃথিবীর ইতিহাসে শ্রেষ্ঠতম জ্ঞানী ব্যক্তিদের একজন। যাদের দ্বারা পৃথিবী বদলে গেছে সেই মহামানবদের তালিকায় তিনি একজন। জ্ঞানের ভাণ্ডার এই মানুষটি জীবদ্দশায় বলতেন ‘নিজের ব্যাপারে আমি বলবো, আমি এটাই জানি যে আমি কিছুই জানি না’। এবার নিশ্চিয়ই বুঝতে পেরেছেন তিনি আর কেউ নন গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিস। দর্শন শাস্ত্রের মৌলিক শিক্ষায় সক্রেটিস পড়ানো হয় প্রায় সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। দর্শনের বাইরেও রয়েছে তার প্রভাব। পৃথিবীর ক্রমবিকাশের ধারায় তিনি মিশে গেছেন প্রতিটি পরম্পরায়, প্রতিটি যুগে। জন্ম ও প্রাথমিক জীবন গ্রিসের এথেন্স নগরীতে ৪৬৯ খ্রিস্টপূর্বাব্দে (মতান্তরে ৪৭০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে) জন্মেছিলেন এই মহামানব। তার পিতা সফ্রোনিসকাস ছিলেন একজন রাজমিস্ত্রি ও ভাস্কর। আর মা ফায়েনারেত ছিলেন একজন ধাত্রী। সফ্রোনিসকাসের আয় মোটামুটি ভালো থাকলেও স্বচ্ছল ছিল না সক্রেটিসের পরিবার। এথেন্সের অ্যালোপেস নামক একটি অঞ্চলে বেড়ে উঠেছিলেন সক্রেটিস। অ্যালোপেস রাজনৈতিক অঞ্চল হওয়ায় সক্রে

দার্শনিক সক্রেটিসের ‘ট্রিপল ফিল্টার টেস্ট’

দার্শনিক সক্রেটিসের ‘ট্রিপল ফিল্টার টেস্ট’ প্রাচীন গ্রীসের একটি ঘটনা। একদিন একজন লোক বিখ্যাত দার্শনিক সক্রেটিসের কাছে এসে বললো, “সক্রেটিস, তুমি কি জানো এই মাত্র আমি তোমার বন্ধুর ব্যাপারে কি শুনে আসলাম?” সক্রেটিস বললো, “এক মিনিট দাঁড়াও, তুমি আমার বন্ধুকে নিয়ে ঘটনাটি বলার আগে আমি তোমাকে তিনটি প্রশ্ন করবো। আমি এর নাম দিয়েছি ‘ট্রিপল ফিল্টার টেস্ট’। প্রথম প্রশ্নটি সত্য-মিথ্যা নিয়ে… “তুমি কি নিশ্চিত তুমি আমাকে যা বলতে যাচ্ছ তা নির্ভেজাল সত্য?” -লোকটি উত্তর দিল, “না, আমি জানি না এটা সত্য কিনা, আসলে আমি শুধু শুনেছি এটা।” ‘ঠিক আছে’, সক্রেটিস আবার বললো, “তাহলে তুমি নিশ্চিত না যে তুমি যা বলবে তা সত্য। ” এখন আমার দ্বিতীয় প্রশ্ন, “তুমি কি আমার বন্ধুকে নিয়ে ভাল কিছু বলবে?” -“উম, নাহ, খারাপ কিছু…” সক্রেটিস বললো, “তাহলে তুমি আমার বন্ধু সম্পর্কে আমাকে খারাপ কিছু বলতে চাও এবং তুমি নিশ্চিত নও যে তা সত্যি কিনা। ” ঠিক আছে, এখনো তৃতীয় প্রশ্ন বাকি, তুমি তৃতীয় প্রশ্নে পাশ করলে আমাকে কথাটি বলতে পারো। “তুমি আমাকে যা বলতে যাচ্ছ তা কি আমার জন্য উপকারী?” -“না, আসলে তোমার জন্য তা উপকারী নয়।” এবার সক্রেটিস

সাধনপুরের ‘সাধু এবং পিশাচ কাহিনী’

সাধনপুরের ‘সাধু এবং পিশাচ কাহিনী ' সাধনপুর গ্রাম। গ্রামের শেষ প্রান্ত থেকে শুরু হয়েছে বিশাল এক মাঠ। মাঠের মাঝামাঝিতেই পুকুরটি। পুকুরের পূর্ব পাশে যে বিরাট বট গাছটা রয়েছে, তার তলায় আস্তানা গেড়েছে এক সাধু বাবা। ইয়া লম্বা লম্বা চুল আর দাড়ি গোফের জঙ্গল। হাত পায়ের নখগুলো বড় বড়। পরনে গেরুয়া বসন, উর্ধাঙ্গ খালি। গলায় রুদ্রাক্ষের মালা। একটা বাঘের চামড়ার উপর বসে থাকে। একপাশে খাড়া করে রাখা একটা ত্রিশুল। আর একটা লোটায় বিভিন্ন গাছের পাতা ও ফুল রাখা। দেখলেই ভক্তি জন্মে সাধু বাবার উপর। গ্রামের লোকজন খুব খুশি। এমন একজন মানুষ তাদের গ্রামে হাজির হয়েছে। গ্রামের লোকজন প্রতিদিন সকালে সাধুবাবার নিকট বিভিন্ন ফলমুল খাদ্যদ্রব্য নিয়ে হাজির হন। সাধুবাবা সবসময় চোখ বুজে থাকেন। কারো সাথে কথা বলেননা। সবগুলো জিনিষ যেভাবেই দেয়া হয় সেভাবেই পড়ে থাকে। পরে লোকেরা তা সরিয়ে নেয়। এভাবে কেটে গেল কয়েকটা দিন। গ্রামের উত্তর প্রান্তে রফিক মিয়ার বাড়ি। তার দুধেল গাইটি সন্ধ্যা থেকে পাওয়া যাচ্ছেনা। সারা গ্রাম আঁতিপাতি করে খোঁজ করেও পাওয়া গেলনা গরুটি। তারপর হাল ছেড়ে দিয়ে রফিক মিয়ে ভাবতে লাগলো কোথায় গেল গরুটি। পরদিন গোয়াল ঘরের পেছন