সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

সফলতার গল্প: একটি গরু থেকে সফল উদ্যাক্তা আলেপ

সফলতার গল্প: একটি গরু থেকে সফল উদ্যাক্তা আলেপ

গরুর খামার

পড়াশোনা শেষ হওয়ার আগেই বিয়ে। স্নাতকোত্তর পাশ করে এনজিও সংস্থায় চাকরি শুরু করেন। কিন্তু স্বপ্ন যার আকাশ ছোঁয়া সে কি আর আর স্বল্প বেতনে চাকরি করতে পারেন? চাকরি ছেড়ে ফিরে আসেন বাড়িতে। কাজ নেই, উপার্জন নেই; হতাশা জেঁকে বসে মনে। এরমধ্যে পরিবার থেকে তাকে আলাদা করে দেয়া হয়।

বাবার দেয়া এক বিঘা জমি ও একটি বকনা বাছুর সম্বল। বাড়ির সামনে কুঁড়ে ঘর তৈরি করে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস। সেই একটি বকনা বাছুর থেকে আজ ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ৫২টি উন্নত জাতের গরুর মালিক তিনি। বাড়ির সামনে গড়ে তুলছেন বিশাল গরুর খামার। করেছেন আলিশান বাড়ি।

বলছি পাবনার চাটমোহর উপজেলার গুনাইগাছা ইউনিয়নের পৈলানপুর গ্রামের মৃত শমসের আলীর ছেলে আলেপ হোসেনের কথা। তার দেখাদেখি এখন গ্রামের প্রায় অর্ধশতাধিক পরিবার উন্নত জাতের গরু লালন-পালন করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। পরিশ্রম করলে কোন কিছুই যে বাধা হতে পারে না তার জ্বলন্ত উদাহারণ আলেপ হোসেন।

২০০৭ সালে পাবনার এ্যডওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে ইতিহাস বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর পাশ করা আলেপ হোসেনের খামারে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির সামনেই গড়ে তুলেছেন বিশাল গরুর খামার।

দুই শ্রমিককে নিয়ে গরুকে গোসল করানো, ঘাস কাটা, খাবার দেয়া, দুধ দহন করা, বিভিন্ন এলাকা থেকে দুধ সংগ্রহ করে দুগ্ধ শীতলীকরণ সেন্টারে পাঠানো থেকে শুরু করে সব কাজ নিজেই করেন আলেপ হোসেন। বসে নেই তার স্ত্রী শিল্পীয়ারা পারভীনও। খামার পরিচর্যায় তিনিও বেশ ব্যস্ত। বাড়ির মানুষের কাছে গরুগুলোই যেন সবকিছু।

শুধু তাই নয়, প্রযুক্তির ব্যবহারও করেছেন খামারে। লাগিয়েছেন সেন্সর। গরুর পেটের মধ্যে বসানো হয়েছে ‘সেন্সর চিপ’। এই সেন্সরই আলেপ হোসেনকে মোবাইলের মাধ্যমে জানাবে কখন গরুকে খাবার দেয়া প্রয়োজন। গরু অসুস্থ হলেও সেই সেন্সরের মাধ্যমে জানা যাবে।

আর গরু ‘চুরি’ সে তো প্রায় অসম্ভব ব্যাপার! সেই সেন্সরের মাধ্যমে আলেপ হোসেন জানতে পারবেন গরু কোথায় আছে? শুধু গরু পালনই নয়, গ্রামের অন্য খামার থেকে দুধ সংগ্রহ করে সেগুলো একজায়গায় করে চিলিং সেন্টারে বিক্রিও করেন তিনি।

বাড়িতে স্থাপন করেছেন বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট। রেখেছেন দুই জন শ্রমিক। তাদের প্রতিমাসে বেতন দিতে হয় ২৩ হাজার টাকা। বড় মেয়ে আইরিন সুলতানা সপ্তম শ্রেণীতে পড়াশোনা করছে। ছোট মেয়ে সুমাইয়া আফরিন জান্নাতি’র বয়স ৩ বছর।

আলেপ হোসেন জানান, বাবা পৃথক করে দেওয়ার পর হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। বেকার হয়ে বসে না থেকে বিভিন্ন এলাকা থেকে দুধ সংগ্রহ করে দুগ্ধ শীতলীকরণ কেন্দ্রে বিক্রি করা শুরু করি। এরমধ্যে আমার বকনা বাছুরও বড় হয়ে দুধ দেয়া শুরু করে।

পরে টাকা জমিয়ে গাভী গরু কেনা শুরু করি। এতে খামারে বাড়তে থাকে গরুর সংখ্যা। সব খরচ বাদ দিয়ে প্রতিমাসে এখন গড় আয় হয় ৭০-৮০ হাজার টাকা। তবে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তিনি আরও বড় খামার গড়ে তুলতে পারবেন বলে জানান।

এক সময়ের ভ্যান চালক (বর্তমানে গরুর খামারের মালিক) একই এলাকার গোলাম মোস্তফা ও মজিবর রহমান জানান, ‘গরু আলেপ ও তার পরিবারকে নতুন জীবন দিয়েছে। খামারটি এলাকার আদর্শ খামার হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। আমরা একসময় ভ্যান চালাতাম। কিন্তু আলেপের দেখাদেখি ও তার পরামর্শে আমরাও এখন বেশ কিছু গরুর মালিক। তার খামার দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন লোকজন আসে।’

উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মহির উদ্দিন বলেন, ‘আমি এই উপজেলায় নতুন এসেছি। তবে তার (আলেপ) ব্যাপারে জেনেছি। তিনি গ্রামের অনেক মানুষকে অনপ্রেরণা দিয়েছেন। উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিস সবসময় তার পাশে থাকবে। এছাড়া সফল উদ্যোক্তা হিসেবে আমরা আলেপ হোসেনকে বার্ষিক সম্মাননা দেওয়ার ব্যবস্থা করবো।’

তথ্য সূত্রঃ অনুপ্রেরণা ডটকম

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

নীতি গল্প: সম্রাট নওশের এর লবনের মূল্য!

নীতি গল্প: সম্রাট নওশের এর লবনের মূল্য! ইরান এক সুন্দর দেশ। সেই দেশের এক সম্রাট- নাম তাঁর নওশের। প্রজাদের তিনি খুব ভালোবাসতেন। সত্য ও সুন্দরের কথা বলতেন। ন্যায়ভাবে শাসন করেন রাজ্য। চারদিকে তাঁর সুনাম। সকলেই সম্রাট নওশেরের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। সম্রাট একদিন সদলবলে শিকারে গিয়েছেন। বনের এদিকে ঘুরে বেড়ান, ওদিকে ঘুরে বেড়ান। শিকার করতে করতে ক্লান্ত হয়ে সম্রাট বিশ্রামের জন্য তাবু ফেললেন। এদিকে দুপুরবেলা, খাবারের সময়। পথশ্রমে সিপাহিরাও সবাই ক্লান্ত। এদিকে  সম্রাট  নওশেরও ক্ষুধা লেগেছে। তিনি বাবুর্চিদের হুকুম দিলেন রান্নার আয়োজন করবার জন্য। কিন্তু বাবুর্চিরা রান্না করতে গিয়ে দেখে তারা লবন আনতে ভুলে গিয়েছে। এক সেপাহি সঙ্গে সঙ্গে ছুটল লবনের সন্ধানে। সম্রাট তাকে বললেন- কোথায় যাচ্ছ তুমি? সেপাহি বলল, ‘বনের ধারে কোন বাড়িতে যাব। দেখি সেখানে লবণ পাওয়া যায় কিনা।’ সম্রাট বললেন, ‘যেখানেই যাও না কেন, যার কাছে থেকেই লবণ আনো না কেন, পয়সা দিয়ে কিনে এনো কিন্তু। সেপাই ঘোড়া নিয়ে ছুটল। খুব তাড়াতাড়ি লবণ জোগাড় করে ফেলল সে। ফিরে এল আরো দ্রুত। মুখে তার সার্থকতার হাসি। সেপাহি বলল, ‘বাদশাহ নামদার, লবণ সংগ্রহ করে এনেছি’। সম

শিক্ষামূলক গল্প: তিন যুবকের নিয়ত

গল্পটি বড় পীর আব্দুল কাদের জিলানী (রহঃ) যুবক বয়সের। যারা আল্লাহর ওলিদের সাথে বেআদবি করেন, সেসকল ভাই-বোনদের জন্য এই ঘটনায় একটি শিক্ষা বা উপদেশ রয়েছে। কুতুবে জামান হযরত আব্দুল কাদের জিলানী রহঃ। তাঁরই যৌবনকালের একটি ঘটনা।  একদিন তিনি এক বুযুর্গের সাথে মুলাকাত করতে যাচ্ছিলেন। সঙ্গে ছিলেন আরো দু’জন লোক। ওদের গন্তব্যও সেই একই জায়গায়। চলতে চলতে ওরা পরস্পর কথা বলছিল। হযরত  আব্দুল কাদের জিলানী (রহঃ)  ওদের কথা চুপচাপ শুনে যাচ্ছিলেন। নিজ থেকে তিনি কিছুই বলছিলেন না। কথা হচ্ছিল বিভিন্ন বিষয় নিয়ে। আলোচনা থেকে কোনো কিছু বাদ যাচ্ছিল না। ব্যক্তিগত, পারিবারিক, রাষ্ট্রীয়-সব ধরনের কথাই স্থান পাচ্ছিল ওদের আলাপচারিতায়। সঙ্গী দু’জনের একজনের নাম-ইবনুস সাকা। বেশিরভাগ কথা সে-ই বলছিল। তাঁর মুখ থেকে খৈ ফুটছিল যেন। কথা-বার্তায় এক পর্যায়ে সে তাঁর সাথীকে জিজ্ঞেস করল, ভাই! তুমি কী উদ্দেশ্যে বুযুর্গের খেদমতে যাচ্ছ? জবাবে সে বলল, আমি কেবল একটি উদ্দেশ্য নিয়ে সেখানে যাচ্ছি। আর তাহলো—রিযিকের প্রশস্ততার জন্য দোয়া চাওয়া। এবার তোমার উদ্দেশ্য বলো। উত্তরে ইবনুস সাকা বলল, আমি এক বড় উদ্দেশ্য নিয়ে সেখানে যাচ্ছি। আমার উদ্দেশ্য হলো

আর্নেস্ট হেমিংওয়ে’র ছয় শব্দের গল্প!

আর্নেস্ট হেমিংওয়ে    ”For sale. Baby shoes. Never worn” বন্ধুদের সঙ্গে একবার রেস্তোরাঁয় বসে খাচ্ছিলেন আর্নেস্ট হেমিংওয়ে। সে সময় তিনি বন্ধুদের সঙ্গে ১০ ডলারের বাজি ধরেন যে ছয় শব্দে তিনি একটা আস্ত গল্প লিখে ফেলতে পারবেন। এরপর ন্যাপকিনে লিখে ফেলেন তার গল্পটি। গল্পটি হচ্ছে—– ”For sale. Baby shoes. Never worn” শিশুর একজোড়া জুতো বিক্রি করা হবে, যা একবারও পরেনি শিশুটি । একজন মায়ের অনুভূতি নিয়ে লেখা এ গল্পটি মাত্র ৬টি শব্দ দিয়ে লেখা হয়েছিল। বাচ্চার জন্য জুতো কেনা হয়েছিল, কিন্তু সেই বাচ্চাটা পৃথিবীর আলোই দেখেনি, মায়ের গর্ভেই শিশুটির মৃতু হয়” ৬ শব্দে গর্ভে মারা যাওয়া শিশুর জন্য মায়ের অনুভূতি! কী ভীষণ বেদনাদায়ক। সাহিত্য সমালোচকেরা এটিকে পৃথিবীর সবচেয়ে  ছোটগল্প  হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে থাকেন !! দারুণ অনুপ্রেরণাদায়ী নোবেল বিজয়ী এ আমেরিকান লেখক তার ‘ দ্য ওল্ডম্যান এন্ড দ্য সি ‘ উপন্যাসে একটি সংলাপ যেটি আজও হেরে যাওয়া মানুষকে সমানভাবে জাগিয়ে তোলে।   “A man can be destroyed but not defeated” বিটোফেন বধির হয়ায় সেই কষ্ট, সে কষ্ট বয়ে বেরিয়েছেন বিটোফেন তাঁর তৈরি করা সুরে। তেমনি প্রত্যেক লেখকের জীবনেই আছে গভ