সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

লাইফস্টাইল: প্রকৃত বন্ধু চিনবেন যেভাবে

লাইফস্টাইল: প্রকৃত বন্ধু চিনবেন যেভাবে

প্রকৃত বন্ধু চিনবেন যেভাবে

সবার জীবনেই কমবেশি বন্ধু থাকে। বন্ধুত্বের বিষয়টি সবার কাছেই স্পেশাল। রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও বন্ধুর সঙ্গে গড়ে ওঠে আত্মার সম্পর্ক। তবে প্রকৃত বন্ধু খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। কখনও কি পরখ করে দেখেছেন, আপনার বন্ধুর তালিকায় যারা আছেন; তারা প্রকৃত কি-না।

বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, একজন আরেকজনকে চেনা। সবার সঙ্গেই কিন্তু বন্ধুত্ব গড়ে তোলা সম্ভব নয়। তবে যাদেরকে বন্ধু বানাচ্ছেন; তারা কি আপনার জন্য যোগ্য তা আগে জানা উচিত।

জানলে অবাক হবেন, বন্ধুত্বেও আছে আসল-নকল। অনেকে বন্ধুত্ব গড়ে তোলেন অপর বন্ধুর কাছ থেকে সুবিধা গ্রহণের জন্য। তবে প্রকৃত বন্ধু কখনও আপনার থেকে সুযোগ-সুবিদা নেবে না বরং সবসময় উপকার করে যাবে। আসল বন্ধু কে এটা নির্ণয় করতে বেশ ঝামেলায়ই পড়তে হয়। তাই প্রকৃত বন্ধু চেনার কিছু কৌশল জেনে নিন-

১) সবকিছুতেই বন্ধুটি আপনাকে প্রয়োজন মনে করছে কি-না তা বোঝার চেষ্টা করুন। অর্থাৎ শুধু বিপদে পড়লেই সে আপনার কাছে সাহায্য চাচ্ছে কি-না তা পরখ করুন। প্রকৃত বন্ধু আপনাকে শুধু প্রয়োজনে নয় সবসময় স্মরণ করবে। অন্যদিকে নকল বন্ধুরা প্রয়োজন শেষে আর খোঁজ নেবে না।

২) বন্ধুত্বের মধ্যে বিশ্বস্ততা থাকা উচিত সবচেয়ে বেশি। ধরুন, আপনি মনের কোনো কথা শেয়ার করলেও বন্ধুর সঙ্গে, কিন্তু সে ওই কথা শুনে অন্য বন্ধুকে বলে দিলো। পরবর্তীতে আপনি যখন বিষয়টি জানবেন; তখন ওই বন্ধু বিষয়টি আর স্বীকার করবে না। এমনটি ঘটলে বুঝবেন তিনি আপনার প্রকৃত বন্ধু নয়। কারণ প্রকৃত বন্ধুরা বন্ধুর কথা নিজের কাছেই রাখেন এবং উপকার ও সৎ পরামর্শ দেন।

৩) মিলিয়ে দেখুন বন্ধুর সঙ্গে আপনার মতামত মিলছে কি-না। সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে কোনো দ্বন্দ্ব তৈরি হচ্ছে কি-না তাও লক্ষ্য করুন। যদি দু’জনার মতামত একই হয়; তাহলে ভালো লক্ষণ। প্রকৃত বন্ধুর সঙ্গে মতের মিল থাকলেও অন্যদের সঙ্গে থাকে না।

৪) আপনার বন্ধু কি যেকোনো প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে? প্রকৃত বন্ধুরা সবসময় প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে থাকেন। যদি আপনার বন্ধু সব ধরনের প্রতিশ্রুতিই ভঙ্গ করেন; তাহলে বুঝবেন তিনি সঠিক নন।

৫) বন্ধুরা একে অন্যের সঙ্গে দুষ্টুমি করবে এটাই স্বাভাবিক। তবে অনেক সময় দেখা যায়, আপনি যাকে বন্ধু ভাবছেন; সে অন্যদের সামনে আপনাকে কটুক্তি করছে কিংবা বিব্রত করছে। প্রকৃত বন্ধুরা কখনও আপনার ভাবমূর্তি নষ্ট করবে না অন্যদের কাছে।

৬) অনেক বন্ধুরা থাকেন; যারা একজনের কথা অন্যজনের কাছে নেগেটিভভাবে প্রকাশ করেন। গসিপ বা মিথ্যা কথা বলেন এমন বন্ধুদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলবেন। এরা বন্ধুত্বের সম্পর্ক নষ্ট করে থাকেন। নিজেরা অন্যের কাছে ভালো থেকে তারা অন্যকে হেয় করেন বিভিন্নভাবে।

৭) আপনার বন্ধুটি অন্য সবার কাছে যেমনই হোক না কেন সে আপনার জন্য উদার কি-না সেটা দেখুন। ভালো বন্ধুরা কখনও কৃপণ প্রকৃতির হন না। বন্ধুর প্রয়োজনে সে সবকিছু করতে প্রস্তুত থাকেন।

৮) বলা হয়ে থাকে, যে যেমন; তার বন্ধুও তেমন হন। খেয়াল করুন, আপনার বন্ধুরা কি বিপজ্জনক না-কি ভালো। অনেক বন্ধুরাই বন্ধুকে মাদকের পথে কিংবা খারাপ পথে ঠেলে দেয়। এমন বন্ধুদের থেকে দূরে থাকেন। অন্যদিকে আপনি খারাপ হলেও প্রকৃত বন্ধু সবসময় ভালো পরামর্শ দিয়ে উপকৃত করবেন।

৯) প্রতিটি মানুষেরই কিছু না কিছু ক্রটি থাকেই। প্রকৃত বন্ধু সেই ত্রুটি বা মন্দকেও মেনে নেন। এমন বন্ধু আপনার জীবনে আশির্বাদ হয়ে আসেন।

১০) অনেক বন্ধুরা আছেন; যারা বিভিন্ন প্রয়োজন নিয়ে আপনার কাছে আসবেন। আপনি হয়তো বুঝবেন না সে কেমন। কারণ নকল বন্ধুরা সবসময় মুখোশ পড়ে থাকেন। তারা বন্ধুত্বের আড়ালে আপনার পিঠে ছুরি বসাতেও দ্বিধাবোধ করবে না। তাই সময় থাকতে আসল ও নকল বন্ধু চিনুন।

#শিক্ষামূলক আর্টিকেল এবং নানান টিপস পেতে ভিজিট করুন অনুপ্রেরণা ডটকম


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

শিক্ষামূলক গল্প: তিন যুবকের নিয়ত

শিক্ষামূলক গল্প: তিন যুবকের নিয়ত :  গল্পটি বড় পীর আব্দুল কাদের জিলানী (রহঃ) যুবক বয়সের। যারা আল্লাহর ওলিদের সাথে বেআদবি করেন, সেসকল ভাই-বোনদের জন্য এই ঘটনায় একটি শিক্ষা বা উপদেশ রয়েছে। কুতুবে জামান হযরত আব্দুল কাদের জিলানী রহঃ। তাঁরই যৌবনকালের একটি ঘটনা।  একদিন তিনি এক বুযুর্গের সাথে মুলাকাত করতে যাচ্ছিলেন। সঙ্গে ছিলেন আরো দু’জন লোক। ওদের গন্তব্যও সেই একই জায়গায়। চলতে চলতে ওরা পরস্পর কথা বলছিল। হযরত আব্দুল কাদের জিলানী রহঃ ওদের কথা চুপচাপ শুনে যাচ্ছিলেন। নিজ থেকে তিনি কিছুই বলছিলেন না। কথা হচ্ছিল বিভিন্ন বিষয় নিয়ে। আলোচনা থেকে কোনো কিছু বাদ যাচ্ছিল না। ব্যক্তিগত, পারিবারিক, রাষ্ট্রীয়-সব ধরনের কথাই স্থান পাচ্ছিল ওদের আলাপচারিতায়। সঙ্গী দু’জনের একজনের নাম-ইবনুস সাকা। বেশিরভাগ কথা সে-ই বলছিল। তাঁর মুখ থেকে খৈ ফুটছিল যেন। কথা-বার্তায় এক পর্যায়ে সে তাঁর সাথীকে জিজ্ঞেস করল, ভাই! তুমি কী উদ্দেশ্যে বুযুর্গের খেদমতে যাচ্ছ? জবাবে সে বলল, আমি কেবল একটি উদ্দেশ্য নিয়ে সেখানে যাচ্ছি। আর তাহলো—রিযিকের প্রশস্ততার জন্য দোয়া চাওয়া। এবার তোমার উদ্দেশ্য বলো। উত্তরে ইবনুস সাকা বলল, আমি এক বড় উদ্দেশ্য নিয়ে

নীতি গল্প: সম্রাট নওশের এর লবনের মূল্য!

নীতি গল্প: সম্রাট নওশের এর লবনের মূল্য! ইরান এক সুন্দর দেশ। সেই দেশের এক সম্রাট- নাম তাঁর নওশের। প্রজাদের তিনি খুব ভালোবাসতেন। সত্য ও সুন্দরের কথা বলতেন। ন্যায়ভাবে শাসন করেন রাজ্য। চারদিকে তাঁর সুনাম। সকলেই সম্রাট নওশেরের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। সম্রাট একদিন সদলবলে শিকারে গিয়েছেন। বনের এদিকে ঘুরে বেড়ান, ওদিকে ঘুরে বেড়ান। শিকার করতে করতে ক্লান্ত হয়ে সম্রাট বিশ্রামের জন্য তাবু ফেললেন। এদিকে দুপুরবেলা, খাবারের সময়। পথশ্রমে সিপাহিরাও সবাই ক্লান্ত। এদিকে  সম্রাট  নওশেরও ক্ষুধা লেগেছে। তিনি বাবুর্চিদের হুকুম দিলেন রান্নার আয়োজন করবার জন্য। কিন্তু বাবুর্চিরা রান্না করতে গিয়ে দেখে তারা লবন আনতে ভুলে গিয়েছে। এক সেপাহি সঙ্গে সঙ্গে ছুটল লবনের সন্ধানে। সম্রাট তাকে বললেন- কোথায় যাচ্ছ তুমি? সেপাহি বলল, ‘বনের ধারে কোন বাড়িতে যাব। দেখি সেখানে লবণ পাওয়া যায় কিনা।’ সম্রাট বললেন, ‘যেখানেই যাও না কেন, যার কাছে থেকেই লবণ আনো না কেন, পয়সা দিয়ে কিনে এনো কিন্তু। সেপাই ঘোড়া নিয়ে ছুটল। খুব তাড়াতাড়ি লবণ জোগাড় করে ফেলল সে। ফিরে এল আরো দ্রুত। মুখে তার সার্থকতার হাসি। সেপাহি বলল, ‘বাদশাহ নামদার, লবণ সংগ্রহ করে এনেছি’। সম

৬০ কিমি হেঁটে ২৬ দিন পর মনিবের কাছে কুকুর!

কুকুর ছানা কুকুরটির এভাবে বাড়ি ফেরার ঘটনা যারাই শুনছেন তারাই অবাক হয়ে যাচ্ছেন! মনিবের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে হারিয়ে গিয়েছিল সে। অনেক খোঁজাখুঁজির পর প্রিয় কুকুরকে ফিরে পাওয়ার আশা যখন সবাই ছেড়ে দিয়েছে  মনিব , তখনই বাড়ি ফিরেছে সে। জানা গেছে, ২৬ দিনে প্রায় ৬০ কিলোমিটার পথ হেঁটেছে সে। চীনের হাংঝোউ কিউ নামে এক ব্যক্তির পোষ্য দোউ দোউ। ওই পরিবারের সবারই খুব আদরের সে। সবাই মিলে বেড়াতে গিয়ে হারিয়ে যায়  কুকুর ছানাটি । বাড়ি থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে একটি সার্ভিস স্টেশনে গাড়ি দাঁড় করিয়েছিল কিউ। সে সময়ই দোউ দোউ হারিয়ে যায়। অনেক খুঁজেও পাওয়া যায়নি। হতাশ হয়ে সবাই বাড়ি ফিরে আসেন। দোউ দোউ হারিয়ে যাওয়ায় পরিবারের সবারই মন খারাপ ছিল। একটা সময় তাকে ফিরে পাওয়ার আশাও ছেড়ে দিয়েছিলেন তারা। কিন্তু ঠিক ২৬ দিন পর বাড়ি ফিরে আসে দোউ দোউ। দরজার সামনে তাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে সবাই চমকে যান। কিন্তু বুঝা যায় খুবই ক্লান্ত সে। অনেক পথ হাঁটার ক্লান্তি তো ছিলই। সেই সঙ্গে সারা গায়ে ময়লা। এখন অবশ্য একেবারে ফিট দোউ দোউ। একটু রোগা হয়ে যাওয়া ছাড়া কোনো বদল নেই। বাড়ি ফেরার আনন্দে চোখ গুলো