সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ফ্লাইট ৫১৩ টাইম ট্রাভেলের এক রহস্যময় ঘটনা!

ফ্লাইট ৫১৩ টাইম ট্রাভেলের এক রহস্যময় ঘটনা!

ফ্লাইট ৫১৩

আমরা যখন প্লেনে ভ্রমন করি তখন আমরা চিন্তা করি একটা নির্দিষ্ট সময় পর আমরা আমাদের গন্তব্যস্থলে পৌছাবো কিন্তু যদি এমন হয় যে প্লেনটি আর গন্তব্যস্থলে পৌছাতেই পাড়লো না তখন?

৪ সেপ্টেম্বর ১৯৫৪ এর সকালে একটি ফ্লাইট সেন্টিয়াগো-৫১৩ এর অদৃশ্য হয়ে যাবার ঘটনাটি এখনো মানুষের কাছে রহস্যময় হয়ে রয়েছে।

১৯৮৯ সালে ট্যাবলয়েড উইকলি ওয়ার্ল্ড নিউজ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অনুসারে, সান্টিয়াগো এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট-৫১৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৫৪ সালে পশ্চিম জার্মানির আচেন থেকে যাত্রা করেছিল এবং ১৮ ঘন্টা পরে ব্রাজিলের পোর্তো আলেগ্রিতে পৌঁছানোর কথা ছিল।

তবে, বিমানটি আটলান্টিক মহাসাগরের উপর দিয়ে যখন যাচ্ছিল তখন মাঝ সমুদ্রে রাডার থেকে সংযোগ হারিয়ে ফেলে। নিখোঁজ হওয়ার সময়, কর্তৃপক্ষ বিশ্বাস করেছিল যে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে এবং এর পরের কয়েক বছর ধরে, যাত্রীদের বা বিমানের অবশেষ অনুসন্ধান করার জন্য একাধিক অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়েছিল তবে কিছুই পাওয়া যায়নি।

সময় কেটে গেল এবং কয়েক দশক কেটে গেল। সান্টিয়াগো এয়ারলাইনসটি নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগের মাত্র দু’বছর পরে ১৯৫৬ সালে এই ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায় এবং বিমান দুর্ঘটনার প্রমাণের একক চিহ্ন খুঁজে না পেয়েও তল্লাশি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

সাড়ে তিন দশক পরে, ১৯৮৯ সালের ১২ ই অক্টোবর, ব্রাজিলের পোর্তো আলেগ্রে বিমানবন্দরে একটি অননুমোদিত বিমান এয়ারবেসের চারদিকে ঘুরতে দেখা গেল। বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণকারীরা পাইলটের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু কোনও সাড়া পাননি।

অবশেষে, বিমানটি রানওয়ের কাছাকাছি এসে একটি নিখুঁত অবতরণ করল। এটি একটি সু-রক্ষণাবেক্ষণশীল আকারে দেখেছিল বিমানবন্দরের সবাই এবং বিমানের পাইলটকে কনট্রোল রুম থেকে বার বার ম্যাসেজ পাঠানো হচ্ছিল কিন্তু কোন সাড়া পাওয়া যায় নি। এরপর বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সতর্কতার সাথে বিমানটির কাছে যায় এবং উদ্ধারকারী কর্মী বিমানের দরজা ভেঙ্গে বিমানের ভিতরে প্রবেশ করে। কিন্তু ভিতরে প্রবেশ করে যা দেখে তাতে তাদের গা শিউরে ওঠে।

তারা জাহাজে চড়া লোকেদের পুরোপুরি সংরক্ষিত কঙ্কাল (৮৮ জন যাত্রী এবং চার জন ক্রু সদস্য) তাদের আসনগুলিতে “নিরাপদে”বসা পেয়েছেন। যেহেতু বিমানটি সেইফলি ল্যান্ড করেছে তাই তারা ভেবেছে হয়তো পাইলট জীবিত আছে। কিন্তু যখন তারা ককপিটের দরজা খুলেছিল, তারা দেখেছিল যে প্লেনের পাইলট ক্যাপ্টেন মিগুয়েল ভিক্টর কুরিও একটি কঙ্কাল আকারে এখনও প্লেনের নেভিগেশন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

বিষয়টিকে সরকার দ্বারা আদেশের ভিত্তিতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ গোপন রাখতে চেয়েছিল কিন্তু সেটা আর হয় নি। পত্রিকার মাধ্যমে প্রথম এটি প্রকাশ পায় যার ফলে চারিদিকে এই খবর ছরিয়ে পরে। ভিন্ন ভিন্ন প্যারানরমাল ইনভেস্টিগেটররা আসে বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করতে।

ঐ সময়ের সেরা প্যারানরমাল ইনভেস্টিগেটর ডঃ আটেলো এই বিষয় ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন, এই প্লেন একটি টাইম লুপের মধ্যে ফেসে গিয়েছিলো অর্থাৎ এই প্লেনটি এমন জায়গায় প্রবেশ করেছিলো যেখানে সময় পৃথিবী থেকে অনেক দ্রুত গতিতে অতিবাহিত হয়। এই থিওরি অনুসারে ঐ প্লেন মোটামুটি ১৮ ঘন্টাই ভ্রমন করেছে কিন্তু পৃথিবী অনুসারে তা ছিল প্রায় ৩৫ বছর। আর যখনই বিমানটি টাইম লুপ থেকে পৃথিবীতে প্রবেশ করেছে তখনই পৃথিবীর সময় অনুযায়ী সকল যাত্রীর মৃত্যু হয়ে গিয়েছে।

সবার প্রশ্ন একটাই ছিল যে একটি বিমান ৩৫ বছর কিভাবে উড়তে পারে? সেক্ষেত্রে বিমানের তেল শেষ হয়ে যাবার কথা র বিমানটি ক্র্যাশ করার কথা। কিন্তু এই থিয়োরি অনুযায়ী ঐ বিমানটি মাত্র ১৮ ঘন্টাই ফ্লাই করেছিলো। এই কারণই ছিল, যার ফলে ঐ বিমানের না তেল শেষ হয়েছিলো আর না কোন প্রকার ড্যামেজ হয়েছিলো। যখন ফুয়েল ট্যাংক পরিক্ষা করা হয়েছিলো তখন ফুয়েল ট্যাংক পুরোপুরি শুখিয়ে গিয়েছিল। অর্থাৎ যখন ঐ প্লেন টাইম লুপের মধ্যে ছিলো তখন সময় তাদের অনুসারেই চলছিলো। ফুয়েলও ছিল, অক্সিজেনও ছিল র সব লোক জীবিতও ছিল। কিন্তু ৩৫ সালের হিসেবে যখনই বিমানটি পৃথিবীতে প্রবেশ করল সব কিছু বদলে গেল। কারন বিমানের পাইলট ও যাত্রী যদি টাইম লুপেই মারা যেত তবে বিমানটি সেফলি ল্যান্ড করতে পারত না। এটি এমন একটি বিষয় যা নিয়ে অনেক রহস্য রয়েছে যার সমাধান এখনো পর্যন্ত পাওয়া যায় নি। তাই কিছু লোক এই বিষয় বিশ্বাস করে আবার কিছু লোক এটিকে মিথ্যা মনে করে।

এখন কথা হল এই ঘটনা কতটা সত্য আর কতটা মিথ্যা?

১/ ৪ সেপ্টেম্বর ১৯৫৪ এর সকালে একটি ফ্লাইট সেন্টিয়াগো-৫১৩ এর মডেলের একটি বিমান জার্মানি থেকে যাত্রা করেছিলো।
২/ বিমানে ৯২ জন যাত্রী (৮৮ জন যাত্রী এবং চার জন ক্রু সদস্য) ছিল।
৩/ বিমানটির ১৮ ঘন্টা ফ্লাই করে ব্রাজিলের পোর্তো আলেগ্রিতে পৌঁছানোর কথা ছিল।
৪/ এটাও সত্য যে বিমানটি যখন আটলান্টিক সাগরের মাঝে পৌছেছিলো তখন বিমানটি রাডারের সাথে সংযোগ হারিয়ে ফেলেছিলো।
৫/ এটাও চরম সত্য যে বিমানটি ১৯৮৯ সালের ১২ ই অক্টোবর, ব্রাজিলের পোর্তো আলেগ্রে বিমানবন্দরে ল্যান্ড করেছিলো।
৬/ কিন্তু যে পত্রিকায় এই ঘটনাটি প্রকাশিত হয়েছিলো যেখানে যাত্রীদের কঙ্কাল পাবার কথা উল্লেখ করা হয়নি এমনকি এই বিষয় কোন ছবিও প্রকাশ করা হয় নি।

এই ঘটনা সম্পর্কে কোন ইনভেস্টিগেশন রিপোর্ট পরবর্তীতে সামনে আসেনি। তার কারন এখনো জানা যায় নি। তবে কি ইনভেস্টিগেশন পূর্ণ হয়ে গিয়েছিলো নাকি এখানে অন্য কোন ঘটনা আছে। এই ঘটনা কি কোন সাইন্স এক্সপেরিমেন্টের ব্যর্থ ফলাফল ছিল নাকি সত্যি বিমানটি কোন টাইম লুপের মধ্যে ফেসে গিয়েছিলো। বারমুডা ট্রাইএঙ্গেলের কথা আমরা সবাই জানি যেখানে এমন অনেক বিমান ও জাহাজ হারিয়ে গেছে যার খোজ কখনই পাওয়া জায়নি। তবে কি বিমানটি বারমুডা ট্রাইএঙ্গেলের মতো কোন শক্তির স্বীকার হয়েছিলো? সব কিছুই রহস্য হয়ে রয়ে গিয়েছে। এই সম্পর্কে আপনাদের কি মনে হয়?

তথ্য সূত্রঃ অনুপ্রেরণা ডটকম

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

শিক্ষামূলক গল্প: তিন যুবকের নিয়ত

শিক্ষামূলক গল্প: তিন যুবকের নিয়ত :  গল্পটি বড় পীর আব্দুল কাদের জিলানী (রহঃ) যুবক বয়সের। যারা আল্লাহর ওলিদের সাথে বেআদবি করেন, সেসকল ভাই-বোনদের জন্য এই ঘটনায় একটি শিক্ষা বা উপদেশ রয়েছে। কুতুবে জামান হযরত আব্দুল কাদের জিলানী রহঃ। তাঁরই যৌবনকালের একটি ঘটনা।  একদিন তিনি এক বুযুর্গের সাথে মুলাকাত করতে যাচ্ছিলেন। সঙ্গে ছিলেন আরো দু’জন লোক। ওদের গন্তব্যও সেই একই জায়গায়। চলতে চলতে ওরা পরস্পর কথা বলছিল। হযরত আব্দুল কাদের জিলানী রহঃ ওদের কথা চুপচাপ শুনে যাচ্ছিলেন। নিজ থেকে তিনি কিছুই বলছিলেন না। কথা হচ্ছিল বিভিন্ন বিষয় নিয়ে। আলোচনা থেকে কোনো কিছু বাদ যাচ্ছিল না। ব্যক্তিগত, পারিবারিক, রাষ্ট্রীয়-সব ধরনের কথাই স্থান পাচ্ছিল ওদের আলাপচারিতায়। সঙ্গী দু’জনের একজনের নাম-ইবনুস সাকা। বেশিরভাগ কথা সে-ই বলছিল। তাঁর মুখ থেকে খৈ ফুটছিল যেন। কথা-বার্তায় এক পর্যায়ে সে তাঁর সাথীকে জিজ্ঞেস করল, ভাই! তুমি কী উদ্দেশ্যে বুযুর্গের খেদমতে যাচ্ছ? জবাবে সে বলল, আমি কেবল একটি উদ্দেশ্য নিয়ে সেখানে যাচ্ছি। আর তাহলো—রিযিকের প্রশস্ততার জন্য দোয়া চাওয়া। এবার তোমার উদ্দেশ্য বলো। উত্তরে ইবনুস সাকা বলল, আমি এক বড় উদ্দেশ্য নিয়ে

নীতি গল্প: সম্রাট নওশের এর লবনের মূল্য!

নীতি গল্প: সম্রাট নওশের এর লবনের মূল্য! ইরান এক সুন্দর দেশ। সেই দেশের এক সম্রাট- নাম তাঁর নওশের। প্রজাদের তিনি খুব ভালোবাসতেন। সত্য ও সুন্দরের কথা বলতেন। ন্যায়ভাবে শাসন করেন রাজ্য। চারদিকে তাঁর সুনাম। সকলেই সম্রাট নওশেরের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। সম্রাট একদিন সদলবলে শিকারে গিয়েছেন। বনের এদিকে ঘুরে বেড়ান, ওদিকে ঘুরে বেড়ান। শিকার করতে করতে ক্লান্ত হয়ে সম্রাট বিশ্রামের জন্য তাবু ফেললেন। এদিকে দুপুরবেলা, খাবারের সময়। পথশ্রমে সিপাহিরাও সবাই ক্লান্ত। এদিকে  সম্রাট  নওশেরও ক্ষুধা লেগেছে। তিনি বাবুর্চিদের হুকুম দিলেন রান্নার আয়োজন করবার জন্য। কিন্তু বাবুর্চিরা রান্না করতে গিয়ে দেখে তারা লবন আনতে ভুলে গিয়েছে। এক সেপাহি সঙ্গে সঙ্গে ছুটল লবনের সন্ধানে। সম্রাট তাকে বললেন- কোথায় যাচ্ছ তুমি? সেপাহি বলল, ‘বনের ধারে কোন বাড়িতে যাব। দেখি সেখানে লবণ পাওয়া যায় কিনা।’ সম্রাট বললেন, ‘যেখানেই যাও না কেন, যার কাছে থেকেই লবণ আনো না কেন, পয়সা দিয়ে কিনে এনো কিন্তু। সেপাই ঘোড়া নিয়ে ছুটল। খুব তাড়াতাড়ি লবণ জোগাড় করে ফেলল সে। ফিরে এল আরো দ্রুত। মুখে তার সার্থকতার হাসি। সেপাহি বলল, ‘বাদশাহ নামদার, লবণ সংগ্রহ করে এনেছি’। সম

৬০ কিমি হেঁটে ২৬ দিন পর মনিবের কাছে কুকুর!

কুকুর ছানা কুকুরটির এভাবে বাড়ি ফেরার ঘটনা যারাই শুনছেন তারাই অবাক হয়ে যাচ্ছেন! মনিবের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে হারিয়ে গিয়েছিল সে। অনেক খোঁজাখুঁজির পর প্রিয় কুকুরকে ফিরে পাওয়ার আশা যখন সবাই ছেড়ে দিয়েছে  মনিব , তখনই বাড়ি ফিরেছে সে। জানা গেছে, ২৬ দিনে প্রায় ৬০ কিলোমিটার পথ হেঁটেছে সে। চীনের হাংঝোউ কিউ নামে এক ব্যক্তির পোষ্য দোউ দোউ। ওই পরিবারের সবারই খুব আদরের সে। সবাই মিলে বেড়াতে গিয়ে হারিয়ে যায়  কুকুর ছানাটি । বাড়ি থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে একটি সার্ভিস স্টেশনে গাড়ি দাঁড় করিয়েছিল কিউ। সে সময়ই দোউ দোউ হারিয়ে যায়। অনেক খুঁজেও পাওয়া যায়নি। হতাশ হয়ে সবাই বাড়ি ফিরে আসেন। দোউ দোউ হারিয়ে যাওয়ায় পরিবারের সবারই মন খারাপ ছিল। একটা সময় তাকে ফিরে পাওয়ার আশাও ছেড়ে দিয়েছিলেন তারা। কিন্তু ঠিক ২৬ দিন পর বাড়ি ফিরে আসে দোউ দোউ। দরজার সামনে তাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে সবাই চমকে যান। কিন্তু বুঝা যায় খুবই ক্লান্ত সে। অনেক পথ হাঁটার ক্লান্তি তো ছিলই। সেই সঙ্গে সারা গায়ে ময়লা। এখন অবশ্য একেবারে ফিট দোউ দোউ। একটু রোগা হয়ে যাওয়া ছাড়া কোনো বদল নেই। বাড়ি ফেরার আনন্দে চোখ গুলো